সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর। নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া (এরিয়ার) বেতন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জন্য নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার, ৫ অক্টোবর থেকে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন মূল বেতন এবং প্রাপ্য বকেয়ার হিসাব নির্ধারণ করা হবে।
৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে পে ফিক্সেশন
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো পে ফিক্সেশন। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মূল বেতন কত হবে, সেটি নির্ধারণ করা।
সোমবার ৫ অক্টোবর থেকে এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনলাইনে দেওয়ার পর হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই-বাছাই করবে। কোনো তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথির অমিল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও থাকবে। যুগান্তর
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে কেন তিন মাসের বকেয়া?
নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পরে শুরু হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই সময়ের বেতন পার্থক্যের একটি অংশ বকেয়া হিসেবে তৈরি হয়েছে।
এই কারণেই অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কালবেলা
সহজভাবে বললে—
- জুলাই মাসের প্রাপ্য বেতন পার্থক্য
- আগস্ট মাসের প্রাপ্য বেতন পার্থক্য
- সেপ্টেম্বর মাসের প্রাপ্য বেতন পার্থক্য
- এবং অক্টোবরের নিয়মিত বেতন
—সব মিলিয়ে অক্টোবর মাসের বেতন পাওয়ার সময় অনেক সরকারি চাকরিজীবী তুলনামূলক বড় অঙ্কের অর্থ হাতে পেতে পারেন।
তবে বকেয়ার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ পে ফিক্সেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়।
সবার বকেয়া কি সমান হবে?
না। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একজন সরকারি কর্মচারী কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর—
- বর্তমান মূল বেতন
- গ্রেড
- নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন
- চাকরির মেয়াদ
- পূর্বের পদোন্নতি
- উচ্চতর গ্রেড বা অন্যান্য বেতন নির্ধারণের ইতিহাস
- নতুন কাঠামো কার্যকরের সময় ইত্যাদি তথ্যের ওপর।
অর্থাৎ একই গ্রেডে চাকরি করলেও দুজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন ভিন্ন হলে তাঁদের বকেয়ার পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। আরটিভি
নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন কত?
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয়—
| বিষয় | নতুন মূল বেতন |
|---|---|
| সর্বনিম্ন, ২০তম গ্রেড | ২০,০০০ টাকা |
| সর্বোচ্চ, ১ম গ্রেড | ১,৫৬,০০০ টাকা |
অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না
অনেকের মনে হতে পারে, নতুন পে-স্কেল যেহেতু ১ জুলাই থেকে কার্যকর, তাই জুলাই থেকেই পুরো নতুন বেতন পাওয়ার কথা। বাস্তবে নতুন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে নতুন মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের নির্দিষ্ট অংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আরও বাড়বে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা। ইত্তেফাক
এ কারণে অক্টোবরের বকেয়া হিসাব করতে গিয়ে প্রত্যেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই অঙ্ক ধরা হবে না।
দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় একটি পরিবর্তন। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পুরো বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে।