বাংলাদেশের সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত জুটি প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেম তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে তাঁরা বিষয়টি প্রকাশ করেন। শেহতাজও গণমাধ্যমকে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলমান।bdnews24
কী কারণে প্রীতম ও শেহতাজের ডিভোর্স?
বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে প্রীতম ও শেহতাজের নিজেদের বক্তব্য থেকেই। দুজনই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময়ের পথচলার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কিছু বড় পার্থক্য তৈরি হওয়ায় আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই তাঁদের কাছে ভালো মনে হয়েছে।
প্রীতমের বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা, অনেক ভেবেচিন্তে এবং দুই পরিবারের সমর্থন ও সম্মতির পর তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
অর্থাৎ, তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট তৃতীয় ব্যক্তি, প্রতারণা বা অন্য কোনো বহুল আলোচিত অভিযোগকে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
‘জাদুকর’ থেকে শুরু হয়েছিল তাঁদের গল্প
প্রীতম ও শেহতাজের পরিচয় হয় ২০১৭ সালে। প্রীতম হাসানের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে শেহতাজ মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন। কাজের সূত্রে পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়।prothomalo
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের অক্টোবরে তাঁরা বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করেন। ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিচ্ছেদ
প্রীতম ও শেহতাজের সম্পর্কের সময়কাল শুধু তাঁদের বিবাহিত জীবন দিয়ে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচয় ও প্রেমসহ তাঁদের একসঙ্গে পথচলা প্রায় এক দশকের।
বিয়ের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের একসঙ্গে বিভিন্ন মুহূর্ত দেখা যেত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁরা পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছেন। এমনকি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। ফলে হঠাৎ বিচ্ছেদের ঘোষণা অনেক ভক্তের কাছেই বিস্ময় তৈরি করেছে।
সম্পর্কের দূরত্ব কি আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল?
বিচ্ছেদের ঘোষণার পর কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে এই অংশটি তাঁদের সরাসরি বক্তব্য নয়; তাই এটিকে তাঁদের প্রকাশ্যভাবে নিশ্চিত করা কারণের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
অন্যদিকে, প্রীতম ও শেহতাজের নিজেদের বক্তব্যে মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পার্থক্য। তাঁরা একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা থাকার কথাও জানিয়েছেন।
দুজনের অনুরোধ কী?
বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রীতম ও শেহতাজ দুজনই তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়কে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়েছেন। নতুন জীবনের এই সময়ে বন্ধু, সহকর্মী, ভক্ত ও গণমাধ্যমের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরিসর ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করেছেন তাঁরা।
প্রীতম ও শেহতাজের বর্তমান অবস্থান
বর্তমানে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। দুজনই নিজেদের জীবনের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সম্পর্কের সমাপ্তি হলেও একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা বজায় রাখার বিষয়টি তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাহলে বলাই যায় তাঁদের নিজেদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু বড় পার্থক্যই বিচ্ছেদের মূল কারণ। সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নয়; দীর্ঘ আলোচনা এবং পরিবারের সমর্থন ও সম্মতির পর নেওয়া হয়েছে। তাই এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান বা গুজবের চেয়ে প্রীতম ও শেহতাজের প্রকাশ্য বক্তব্যকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।