গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “পিচ্ছি মেয়ে ভাইরাল ভিডিও”, “৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিও”, “পিচ্ছি ভাইরাল ভিডিও”—এ ধরনের বিভিন্ন কিওয়ার্ড ব্যবহার করে পোস্ট, লিংক ও ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে।
একটি ছোট মেয়েকে ঘিরে তৈরি হওয়া এমন সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষের কৌতূহল বাড়ানো হচ্ছে। এরপর বিভিন্ন পোস্টে ভিডিও দেখার জন্য লিংকে ক্লিক করতে বলা হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কোথাও কোথাও টাকার বিনিময়ে এসব কথিত ভিডিও বা লিংক শেয়ার/সরবরাহ করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে।
টাকা নিয়ে ভিডিও বা লিংক শেয়ারের বিষয়টি কী?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিষয় আলোচনায় এলে কিছু ব্যক্তি বা পেজ সেটিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। যেমন—৫০ টাকা, ১০০ টাকা বা অন্য কোনো অর্থের বিনিময়ে কথিত ভিডিও, লিংক কিংবা “পুরো ভিডিও” দেওয়ার দাবি করা হতে পারে।
এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কারণ আপনি টাকা দেওয়ার পরও কথিত ভিডিও বা লিংক নাও পেতে পারেন। আবার দেওয়া লিংকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে।
শুধু তাই নয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে কোনো শিশুর ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল কনটেন্ট আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
“ভাইরাল ভিডিও” নাম ব্যবহার করে কৌতূহল তৈরি করা হচ্ছে
“৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড”, “পুরো ভিডিও”, “ভাইরাল ভিডিও লিংক”—এ ধরনের নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে মানুষের কৌতূহল বাড়ানো হতে পারে।
একই ধরনের পোস্ট যখন একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ বা পেজ থেকে ছড়ানো হয়, তখন অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে বিষয়টি সত্যিই বড় কোনো ঘটনা। কিন্তু অনেক মানুষ শেয়ার করছে—এটা কোনো তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করে না।
তাই শুধু ভাইরাল হওয়ার কারণে কোনো পোস্ট বা লিংককে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
টাকা দিয়ে কোনো লিংক কিনবেন না
কেউ যদি ৫০ টাকা, ১০০ টাকা বা অন্য কোনো অর্থের বিনিময়ে কথিত “ভাইরাল ভিডিও” বা লিংক দেওয়ার কথা বলে, তাহলে সতর্ক থাকুন।
বিশেষ করে অপরিচিত ব্যক্তিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো, ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে লগইন করা থেকে বিরত থাকুন।
কৌতূহলের কারণে টাকা হারানোর পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
শিশুকে নিয়ে সংবেদনশীল কনটেন্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যদি কোনো কনটেন্টে কোনো শিশু জড়িত থাকে, তাহলে সেটি ডাউনলোড, সংরক্ষণ বা অন্যের কাছে পাঠানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
একবার কোনো ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। একটি শেয়ার বা ফরোয়ার্ডও সেই কনটেন্টকে আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
তাই এ ধরনের কোনো পোস্ট চোখে পড়লে ক্লিক বা শেয়ার না করে রিপোর্ট করুন।
#### কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
- “ভাইরাল ভিডিও” বা “পুরো ভিডিও” লেখা অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না।
- ৫০/১০০ টাকা বা অন্য কোনো অর্থের বিনিময়ে কথিত ভিডিও বা লিংক কেনার চেষ্টা করবেন না।
- কোনো শিশুর ছবি বা সংবেদনশীল ভিডিও ডাউনলোড কিংবা শেয়ার করবেন না।
অপরিচিত ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর আগে বিষয়টি যাচাই করুন।
- সন্দেহজনক পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট ফেসবুকে রিপোর্ট করুন।
- কোনো বিষয় ভাইরাল হলেই সেটিকে সত্য ধরে নেবেন না।
- ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড, OTP বা আর্থিক তথ্য কোনো সন্দেহজনক লিংকে দেবেন না।
সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন
অনলাইনে মানুষের কৌতূহলকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও লিংক ছড়ানো নতুন কিছু নয়। তাই “ভাইরাল” শব্দ দেখেই কোনো লিংকে ক্লিক করা বা টাকা দিয়ে কথিত ভিডিও সংগ্রহ করার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকুন।
বিশেষ করে কোনো শিশু জড়িত থাকলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। ভিউ বা শেয়ারের জন্য কোনো শিশুর ব্যক্তিগত বিষয়কে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
সচেতন থাকুন, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলুন এবং অন্যদেরও সতর্ক করুন।
Disclaimer: এই লেখাটি কোনো ভিডিও, ছবি, ব্যক্তি বা সংবেদনশীল কনটেন্ট প্রচার, বিক্রি বা বিতরণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত “ভাইরাল ভিডিও” এবং অর্থের বিনিময়ে লিংক/ভিডিও দেওয়ার দাবির বিষয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করাই এই লেখার উদ্দেশ্য।
এখানে কোনো আপত্তিকর ভিডিও, ছবি, ডাউনলোড লিংক, ব্যক্তিগত তথ্য বা সংবেদনশীল কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়নি এবং পাঠকদের এসব কনটেন্ট অনুসন্ধান, ক্রয়, ডাউনলোড বা শেয়ার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে না।
কোনো ব্যক্তি, পেজ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের চূড়ান্ত দাবি করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
শিশুদের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখান।