গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং প্রয়োজনে ওই পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হবে।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, "বিভিন্ন সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই পকেট কাটার উৎসব আর চলতে দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে এখন থেকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হবে।"
তিনি আরও জানান, দূরপাল্লার বাস এবং মহানগরের ভেতরের গণপরিবহন—উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। কোনো কোম্পানি বা বাস মালিক যদি সরকারের বেঁধে দেওয়া ভাড়ার তালিকা অমান্য করে, তবে তাদের লাইসেন্স এবং রুট পারমিট স্থায়ীভাবে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)।
বিআরটিএ-র মোবাইল কোর্ট ও ঝটিকা অভিযান
যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং আইন অমান্যকারীদের ধরতে মহাসড়ক ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিআরটিএ (BRTA) মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, শুধু নির্দিষ্ট কাউন্টার নয়, রাস্তায় যেকোনো জায়গায় বাস থামিয়ে যাত্রীদের সাথে কথা বলে ভাড়ার সত্যতা যাচাই করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
অভিযানে কোনো বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ মিললেই তাৎক্ষণিকভাবে:
- মোটা অঙ্কের নগদ জরিমানা করা হবে।
- বারবার একই অপরাধ করলে গাড়ি জব্দ (Seize) করা হবে।
- চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে ওই রুটে গাড়ি চালানোর অনুমতি বা রুট পারমিট স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।
যাত্রীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাধারণ যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "অন্যায়ভাবে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তা মুখ বুজে সহ্য করবেন না। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা বা চার্ট দেখতে চান।"
একই সাথে কোনো পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বা যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করলে দ্রুত বিআরটিএ-র হটলাইন নম্বরে অথবা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
পরিবহন মালিকদের সতর্কবার্তা
পরিবহন খাতের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চালকের জন্য পুরো পরিবহন খাতের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তাই লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি বন্ধ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। অন্যথায় সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে সবাইকে।
সরকারের এই নতুন নির্দেশনা জারির পর সাধারণ যাত্রীদের মনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কঠোরভাবে করা হয়।